# Tags

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে বিএনপি  তরুন নেতা ডা. লাকি

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল, যেখানে প্রকৃতি যেমন অপার সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, তেমনি উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত রেখে দিয়েছে এখানকার মানুষদের। বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানিবন্দি হয়ে থাকেন হাওরবাসী, ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়েছে এই জনপদ। এই বৈষম্য দূর করে হাওরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন-ইটনা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুন নেতা অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকী।

তিনি নিয়মিত নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রাম ও পাড়ায় ঘুরে ঘুরে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া গণসংযোগ, পথ সভা ও উঠান বৈঠক করে সকলের খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। তার কর্মদক্ষতায় মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বলে জানান তার কর্মী সমর্থকরা।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চন এঁর ছেলে তরুন নেতা অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকী পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বাবার মতোই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে তিনি পরিচিত একজন জনপ্রিয় মুখ। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায় তাঁর অবদান হাওরবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

তিনি বিশ্বাস করেন, “উন্নয়ন মানে কেবলমাত্র শহর নয়, গ্রাম-হাওরও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার।” এ বিশ্বাস থেকেই তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন-ইটনা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাঁর লক্ষ্য হাওরের টেকসই উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

হাওরের জন্য তাঁর প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো: আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, বন্যা-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও বৃত্তি চালু, তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণ ও বিপণনের সুবিধা, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন (ব্রীজ, রাস্তা, নৌপথ) ও পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

ডা. লাকি বলেন, হাওরের তিন উপজেলা-অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনাকে তিনি আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মডেল উপজেলাতে রূপান্তর করতে চান। এজন্য তিনি এক সুসংগত উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিতে আগ্রহ জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডা. লাকী শুধু রাজনীতিক নন, একজন সহানুভূতিশীল সমাজকর্মী। তিনি নিয়মিত হাওরের দুর্গম এলাকায় গিয়েছেন, মানুষের পাশে থেকেছেন দুর্যোগে, দিয়েছেন সেবা, জুগিয়েছেন সাহস। তাই অনেকে মনে করছেন “এই এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন তিনিই।”

বিএনপি যদি হাওর অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে চায়, তাহলে ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকী’র মতো গ্রহণযোগ্য ও কর্মঠ একজন নেতার প্রার্থিতার দিকে তাকানো উচিত বলে অনেকেই মনে করছেন।

কিশোরগঞ্জ হাওরের জনগণ চায় একজন বাস্তববাদী, মাটির কাছের, স্বপ্নবান নেতা যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দেবেন না, বাস্তবায়ন করতেও জানবেন। ডা. লাকী যেন সেই আশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন হাওরবাসীর চোখে।

জানা যায়, বাংলাদেশের মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এই ভোটারদের মন জয় করতেই বিএনপি এবার মনোনয়নে নতুন মুখ, বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতাদের এগিয়ে রাখছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তরুণদের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তরুণ নেতৃত্ব ছাড়া রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেই। জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এসব ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করছেন তারা। তরুণরাই এবার বেশি অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা তরুণদের ভাবনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা সাজানোর কথা বলছেন। যে কারণে দলের তরুণ প্রার্থীও আশায় বুক বাঁধছেন।

তরুন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে এমন তথ্য অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ-৪ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন-ইটনা) আসন থেকে এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুন ও ড্যাব নেতা ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকি বলেন, আমার বাবা এ আসনে বিএনপির এমপি ছিলেন। তিনি রাজনীতি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। আর আমি রাজনীতি করছি তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের সঙ্গে।
তিনি তারুণ্যের নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আশা করছি আমাকে মনোনয়ন দেবেন। তাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করে যাচ্ছি।”নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। বাবার মতো আমিও জনগণের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।” আশা করি দল বিবেচনা করলে মর্যাদা রক্ষা করতে পারব।” তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যেটাই করবে তা মেনে নেব।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনৈতিক দলগুলো। ভোট কবে হবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো জোরেশোরে নির্বাচনি প্রস্তুতি চালাচ্ছে। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে দলগুলোর মধ্যে তা নিয়ে কথার লড়াই চললেও অনেক দল ভেতরে ভেতরে প্রার্থিতা ঠিক করে ফেলেছে। কিন্তু বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিতে এখনো আসনভিত্তিক সুনির্দিষ্ট করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে নির্বাচনি কৌশলে তরুণ, শিক্ষিত ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে এবার বড় পরিবর্তন আনতে চায় দলটি। যার ফলে অনেক তরুন নেতার মতো ডা. ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী লাকিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ দূত ও সাবেক এমপি ফরহাদ আহমদ কাঞ্চনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী। তিনি এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি গরিব-দুঃখীদের সহযোগিতা করে এ আসনের ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি ঈদ, পূজা ছাড়াও নিজ এলাকার ইটনা থানার বাদলা ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
জিয়াউর রহমানের আমলে তার বাবাই একমাত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। এবার বাবার মতো এ আসন থেকে জয়ী হওয়ার আশায় বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।